নেত্রী অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ধুকে ধুকে মরছেন: মির্জা আব্বাস

12

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী।  উনাকে কেউ প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে দেয় নাই, এদেশের লক্ষ কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে কোটি কোটি ভোটের ব্যবধানে তিনি এদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। আজকে সেই প্রধানমন্ত্রী অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ধুকে ধুকে মরছেন।  উনার সুচিকিৎসা হচ্ছে না।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় বাংলাদেশ নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের উদ্যোগে সংগঠনটির সদস্য সচিব নিপুণ রায় চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আব্বাস বলেন,  আমরা উনার চিকিৎসার কথা বলেছি, আমরা বিদেশে নেওয়ার কথা বলেছি-আমরা অনুরোধ করেছি।  কিন্তু চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী।  দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে তারা চিকিতসা করতে দেবে না।  আমরা আজকেও এ সভা থেকে বলতে চাই যে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে আসার সুযোগ দিন এবং নিপুণ রায় চৌধুরীকে মুক্তি দিন।

মির্জা আব্বাস আরও বলেন, আমার বারবার একটা কথা মনে হয়, এদেশ সম্ভবত আওয়ামী লীগ চালাচ্ছে না।  একটা পুতুল সরকার এদেশে বসা আছে।  তারাই চালাচ্ছে। কারো নির্দেশ মতো কোনো গোষ্ঠী, কোনো প্রতিষ্ঠান, কোনো সংস্থা কিংবা সবাই একত্রিতভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের গা বাঁচানোর জন্য এই আওয়ামী লীগ নামক পুতুলটিকে টিকিয়ে রেখেছে।  তিনি বলেন, এমন কোনো সংস্থা নাই, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নাই, এমন কোনো ব্যক্তি নাই যারা চুরি-ডাকাতি-লুট করে নাই।  হাজার হাজার কোটি টাকা তারা বিদেশে পাঁচার করে দিয়েছে।  পিকে দত্তের মতো বহু বেসরকারি এবং সরকারি কর্মচারিরা বাংলাদেশের টাকা লুট করেছে।  তারা দেশে অবস্থান করছে আর তাদের সন্তান-সন্তাতিরা বিদেশে অবস্থান করছে।  আমি বলতে চাই ওদেরও বিচার হবে।  এতো খুন, এতো লুট, এতো গুম-এরও বিচার হবে। যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকে তাদেও (লুটপাটকারী) বিচার হবে। সেই সমস্ত বিচারের ভয় আজকে একটা গোষ্ঠী এই সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে।

সংগঠনের সদস্য মীর সরাফত আলী সপুর সভাপতিত্বে ও আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ‘র সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপি নেতা শিরিন সুলতানা, আজিজুল বারী হেলাল, আফরোজা আব্বাস, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, খন্দকার আবু আশফাক, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমীন, আবদুর রহিম, আরিফা সুলতানা রুমা প্রমুখ।